আপনি আমার এই ব্লগ পেইজ থেকে ওয়াডপ্রেস,ব্লগার এর বিভিন্ন টিপস পাবেন। এখানে ক্লিক করুন

Domain Suspend

ডোমেইন সাসপেন্ড হওয়া মানে হলো আপনার ওয়েবসাইটের ঠিকানাটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া। নিচে এর কারণ ও প্রতিকার নিয়ে বিস্তারিত প্রশ্নোত্তর দেওয়া হলো:

১. ডোমেইন সাসপেন্ড হওয়া বলতে কি বুঝায়?

উত্তর: যখন কোনো ডোমেইন রেজিস্টার (যেখান থেকে ডোমেইন কেনা হয়েছে) বা আইসিএএনএন (ICANN) কোনো কারণে আপনার ডোমেইনটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়, তখন তাকে ডোমেইন সাসপেন্ড হওয়া বলে। এতে আপনার ওয়েবসাইট ও ইমেইল সার্ভিস বন্ধ হয়ে যায়।

২. ডোমেইন কেন সাসপেন্ড হয়? (প্রধান কারণগুলো)

উত্তর: ডোমেইন সাসপেন্ড হওয়ার সাধারণ কিছু কারণ হলো:

  • ইমেইল ভেরিফিকেশন না করা: ডোমেইন কেনার পর ১৫ দিনের মধ্যে ভেরিফিকেশন লিঙ্কে ক্লিক না করলে।

  • ভুল তথ্য প্রদান: রেজিস্ট্রেশনের সময় নাম, ঠিকানা বা ফোন নম্বর ভুল দিলে।

  • পেমেন্ট ইস্যু: সময়মতো রিনিউ না করলে বা পেমেন্টে কোনো জালিয়াতি ধরা পড়লে।

  • কপিরাইট লঙ্ঘন: অন্য কোনো কোম্পানির ট্রেডমার্ক বা নাম ব্যবহার করে সাইট বানালে।

  • স্প্যামিং বা ম্যালওয়্যার: আপনার ডোমেইন ব্যবহার করে স্প্যাম ইমেইল পাঠালে বা ভাইরাস ছড়ালে।

৩. ডোমেইন সাসপেন্ড হলে কি বুঝা যায়?

উত্তর: আপনার ওয়েবসাইট ব্রাউজ করলে 'Server not found' দেখাবে অথবা রেজিস্টার কোম্পানির একটি নোটিশ পেজ শো করবে। এছাড়াও আপনার ডোমেইন প্যানেলে স্ট্যাটাস "ClientHold" বা "Suspended" দেখাবে।

৪. "ClientHold" স্ট্যাটাস কেন আসে?

উত্তর: সাধারণত ইমেইল ভেরিফিকেশন না করলে বা আইনি কোনো অভিযোগ থাকলে রেজিস্টার ডোমেইনটিকে 'Hold' করে রাখে। এটি সাসপেন্ড হওয়ার একটি প্রাথমিক লক্ষণ।

৫. ডোমেইন সাসপেন্ড হলে কি করণীয়?

উত্তর: * প্রথমে আপনার রেজিস্টার করা ইমেইল চেক করুন, তারা অবশ্যই একটি মেইল পাঠিয়েছে।

  • যদি ইমেইল ভেরিফিকেশন বাকি থাকে, তবে লিঙ্কে ক্লিক করে ভেরিফাই করুন।

  • রেজিস্টার কোম্পানির কাস্টমার সাপোর্টে যোগাযোগ করুন এবং কারণ জানতে চান।

  • তারা কোনো নথিপত্র (যেমন: এনআইডি বা পাসপোর্ট) চাইলে তা জমা দিন।

৬. ডোমেইন কি চিরস্থায়ীভাবে সাসপেন্ড হতে পারে?

উত্তর: হ্যাঁ। যদি আপনি বারবার কপিরাইট আইন ভঙ্গ করেন বা কোনো বড় ধরনের অপরাধমূলক (Phishing/Scamming) কাজে ডোমেইন ব্যবহার করেন, তবে তা চিরতরে বাতিল হতে পারে।

৭. রিনিউ না করলে কি ডোমেইন সাসপেন্ড হয়?

উত্তর: হ্যাঁ, মেয়াদের একদিন পর থেকেই ডোমেইন সাসপেন্ড হয়ে যায়। তবে নির্দিষ্ট সময়ের (Grace Period) মধ্যে টাকা জমা দিলে তা আবার সচল হয়।

৮. ভুল ডোমেইন তথ্য দিলে কি জরিমানা হয়?

উত্তর: সাধারণত জরিমানা হয় না, তবে তথ্য সংশোধন না করা পর্যন্ত ডোমেইনটি বন্ধ রাখা হয়।

৯. অন্য কারো ডোমেইন কি আমি রিপোর্ট করে সাসপেন্ড করতে পারি?

উত্তর: যদি ওই ডোমেইনটি আপনার কোনো কপিরাইট বা ট্রেডমার্ক লঙ্ঘন করে, তবে আপনি উপযুক্ত প্রমাণসহ ডোমেইন রেজিস্টারের কাছে 'Abuse Report' করতে পারেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সেটি সাসপেন্ড হবে।

১০. ডোমেইন সাসপেন্ড হওয়া থেকে বাঁচার উপায় কি?

উত্তর:  রেজিস্ট্রেশনের সময় সবসময় সঠিক তথ্য দিন।

  • ডোমেইন কেনার পর ইমেইল ইনবক্স চেক করে ভেরিফিকেশন নিশ্চিত করুন।

  • মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই রিনিউ করার চেষ্টা করুন।

  • অবৈধ বা কপিরাইট যুক্ত কন্টেন্ট থেকে দূরে থাকুন।

১১. ডোমেইন স্ট্যাটাস 'ServerHold' দেখালে তার মানে কি? উত্তর: যদি WHOIS রেকর্ডে স্ট্যাটাস ServerHold দেখেন, তবে বুঝবেন ডোমেইন রেজিস্ট্রি (যেমন: Verisign) সরাসরি এটি বন্ধ করেছে। এটি সাধারণত বড় কোনো আইনি সমস্যা বা আদালতের নির্দেশে হয়।

১২. WHOIS ভেরিফিকেশন মেইল কি প্রতি বছর আসে? উত্তর: অনেক সময় রেজিস্টার কোম্পানি বছরে একবার তথ্য যাচাইয়ের জন্য মেইল পাঠায়। সেই মেইলে সাড়া না দিলে ডোমেইনটি Data Validation ইস্যুতে সাসপেন্ড হতে পারে।

১৩. 'Abuse' রিপোর্টের কারণে সাসপেন্ড হলে কি ডোমেইন ফেরত পাওয়া যায়? উত্তর: হ্যাঁ, তবে আপনাকে প্রমাণ করতে হবে যে আপনি কোনো ভুল করেননি। অথবা যদি আপনার সাইটে ম্যালওয়্যার থাকে, তবে তা পরিষ্কার (Clean) করার পর কোম্পানিকে জানালে তারা ডোমেইন খুলে দেয়।

১৪. ডোমেইন প্যানেলে 'Redemption' স্ট্যাটাস কি সাসপেনশনের অংশ? উত্তর: এটি মূলত রিনিউ না করার চূড়ান্ত পর্যায়। মেয়াদ শেষ হওয়ার ৪৫ দিন পার হয়ে গেলে ডোমেইনটি এই অবস্থায় যায়। এটি ফিরে পেতে সাধারণ রিনিউ ফি-এর চেয়ে অনেক গুণ বেশি (যেমন: ৮০-১৫০ ডলার) জরিমানা দিতে হয়।

১৫. ডোমেইন কি হ্যাক হওয়ার পর সাসপেন্ড হতে পারে? উত্তর: হ্যাঁ। যদি হ্যাকার আপনার ডোমেইন হ্যাক করে সেখান থেকে ফিশিং লিঙ্ক ছড়ায়, তবে ডোমেইন রেজিস্টার কোম্পানি নিরাপত্তার খাতিরে ডোমেইনটি সাসপেন্ড করে দেয়।

১৬. ভুয়া এনআইডি (NID) বা ঠিকানা দিলে কি ঝুঁকি থাকে? উত্তর: অবশ্যই। ডোমেইন কোম্পানি যদি কোনো কারণে আপনার কাছে আইডি কার্ড বা ঠিকানার প্রমাণ চায় এবং আপনি তা দিতে না পারেন, তবে ডোমেইনটি স্থায়ীভাবে সাসপেন্ড হবে এবং আপনি মালিকানা হারাবেন।

১৭. ডোমেইন সাসপেন্ড থাকা অবস্থায় কি তা অন্য কোম্পানিতে ট্রান্সফার করা যায়? উত্তর: না। ডোমেইন ট্রান্সফার করার জন্য ডোমেইনটি অবশ্যই Active বা OK স্ট্যাটাসে থাকতে হবে। সাসপেন্ড থাকা অবস্থায় ট্রান্সফার লক থাকে।

১৮. ডোমেইন কি কোনো কারণ ছাড়াই সাসপেন্ড হতে পারে? উত্তর: না, কারণ ছাড়া হয় না। তবে অনেক সময় স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমের ভুলের কারণে (False Positive) হতে পারে। কাস্টমার সাপোর্টে কথা বললে তারা এটি ঠিক করে দেয়।

১৯. ডোমেইন কি বিদেশের মাটিতে বসে কিনলে বাংলাদেশ থেকে সাসপেন্ড হতে পারে? উত্তর: ডোমেইন আন্তর্জাতিক সম্পদ। আপনি পৃথিবীর যেখানেই থাকুন না কেন, নিয়ম মেনে চললে সাসপেন্ড হবে না। তবে নির্দিষ্ট দেশীয় ডোমেইন (যেমন: .gov.bd) নিয়ম বহির্ভূতভাবে নিলে সমস্যা হতে পারে।

২০. ট্রেডমার্ক ডিসপিউট (Trademark Dispute) কি? উত্তর: ধরুন আপনি facebook-shop.com নামে ডোমেইন নিলেন। এখন ফেসবুক কোম্পানি যদি আপনার নামে মামলা বা অভিযোগ করে, তবে আইসিএএনএন-এর ইউডিআরপি (UDRP) পলিসি অনুযায়ী আপনার ডোমেইনটি সরাসরি সাসপেন্ড করে ফেসবুকের কাছে দিয়ে দেওয়া হতে পারে।

২১. ডোমেইন কি পেমেন্ট চার্জব্যাক (Chargeback) এর জন্য সাসপেন্ড হয়? উত্তর: এটি একটি বড় কারণ। আপনি যদি কার্ড দিয়ে ডোমেইন কিনেন এবং পরে ব্যাংক থেকে সেই পেমেন্ট ক্যানসেল বা রিফান্ড করার চেষ্টা করেন, তবে রেজিস্টার কোম্পানি সাথে সাথে ডোমেইন সাসপেন্ড করে দেবে।

২২. সাব-ডোমেইনে খারাপ কন্টেন্ট থাকলে কি মূল ডোমেইন সাসপেন্ড হয়? উত্তর: হ্যাঁ। যেহেতু সাব-ডোমেইন মূল ডোমেইনের অংশ, তাই সাব-ডোমেইনে কোনো অবৈধ কাজ করলে পুরো ডোমেইনটিই বিপদে পড়তে পারে।

২৩. ডোমেইন সাসপেন্ড হওয়া কি এসইও-তে প্রভাব ফেলে? উত্তর: অবশ্যই। ডোমেইন বেশ কয়েকদিন সাসপেন্ড থাকলে সার্চ ইঞ্জিন আপনার সাইটকে ইনডেক্স থেকে সরিয়ে দেয় (De-index), ফলে আপনার পূর্বের র‍্যাঙ্কিং হারিয়ে যায়।

২৪. ডোমেইন সাসপেন্ড হলে কি ইমেইল আসবে? উত্তর: হ্যাঁ, ডোমেইন রেজিস্টার অবশ্যই আপনার রেজিস্টার্ড ইমেইলে কারণসহ নোটিশ পাঠাবে। তাই নিয়মিত ইমেইল চেক করা জরুরি।

২৫. ডোমেইন কি খুব দ্রুত রিকভার (Recover) করা যায়? 

উত্তর: যদি সমস্যাটি ইমেইল ভেরিফিকেশন বা পেমেন্ট সংক্রান্ত হয়, তবে কাজ শেষ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ডোমেইন সচল হয়ে যায়। তবে আইনি সমস্যা হলে কয়েক সপ্তাহও লাগতে পারে।




২৬. ডোমেইন স্ট্যাটাস 'PendingDelete' দেখালে কি সেটি সাসপেন্ড হওয়া বুঝায়? উত্তর: না, এটি সাসপেনশনের পরবর্তী ধাপ। এর মানে হলো ডোমেইনের মেয়াদ শেষ হয়েছে, রিনিউ করার সময়ও পার হয়ে গেছে এবং এখন ডোমেইনটি চিরতরে মুছে যাওয়ার অপেক্ষায় আছে। এই অবস্থায় এটি আর রিকভার করা প্রায় অসম্ভব।

২৭. ডোমেইন কি সার্ভার ওভারলোডের কারণে সাসপেন্ড হয়? উত্তর: না, ডোমেইন কখনো সার্ভার ওভারলোডের জন্য সাসপেন্ড হয় না। সার্ভার ওভারলোড হলে আপনার হোস্টিং কোম্পানি হোস্টিং অ্যাকাউন্টটি সাময়িক বন্ধ করতে পারে, কিন্তু আপনার ডোমেইন ঠিকই সচল থাকে।

২৮. প্রাইভেসি প্রোটেকশন ব্যবহার করলে কি সাসপেন্ড হওয়ার ঝুঁকি কমে? উত্তর: সরাসরি ঝুঁকি কমে না, তবে এটি আপনার ব্যক্তিগত তথ্য স্প্যামারদের হাত থেকে রক্ষা করে। অনেক সময় স্প্যামাররা আপনার তথ্য পেয়ে আপনার নামে ভুয়া রিপোর্ট করতে পারে, প্রাইভেসি প্রোটেকশন থাকলে সেই সুযোগ তারা পায় না।

২৯. ডোমেইন রেজিস্টারের ওয়েবসাইট বন্ধ হয়ে গেলে কি আমার ডোমেইন সাসপেন্ড হবে? উত্তর: না। কোনো কোম্পানি (রেজিস্টার) দেউলিয়া হলে বা বন্ধ হয়ে গেলে ICANN অন্য একটি কোম্পানির কাছে সেই ডোমেইনগুলোর দায়িত্ব হস্তান্তর করে। তবে আপনার ডোমেইন সচল থাকবে।

৩০. ডোমেইন কি পলিটিক্যাল কারণে সাসপেন্ড হতে পারে? উত্তর: সাধারণত ডোমেইন রেজিস্টার কোম্পানিগুলো নিরপেক্ষ থাকে। তবে যদি কোনো সাইট সরাসরি রাষ্ট্রদ্রোহী বা উস্কানিমূলক কাজে লিপ্ত হয় এবং সরকার থেকে আইনি নোটিশ যায়, তবে ডোমেইনটি সাসপেন্ড করা হতে পারে।

৩১. একই প্যানেলে অনেক ডোমেইন থাকলে একটির কারণে কি সব সাসপেন্ড হয়? উত্তর: না, প্রতিটি ডোমেইন আলাদা। তবে যদি আপনার পুরো অ্যাকাউন্টটি পেমেন্ট জালিয়াতি বা সিকিউরিটি সমস্যার কারণে লক করা হয়, তবে আপনার সব ডোমেইন একই সাথে ম্যানেজ করতে সমস্যা হতে পারে।

৩২. ডোমেইন কি অটো-রিনিউ (Auto-Renew) অফ থাকলে সাসপেন্ড হয়? উত্তর: অটো-রিনিউ অফ থাকলে মেয়াদের দিন শেষে ডোমেইনটি রিনিউ হবে না এবং সাথে সাথে সাসপেন্ড হয়ে যাবে। তাই নিরাপদ থাকতে সবসময় অটো-রিনিউ অন রাখা এবং কার্ডে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স রাখা ভালো।

৩৩. ডোমেইন কি হোস্টিং পরিবর্তন করলে সাসপেন্ড হয়? উত্তর: না। হোস্টিং পরিবর্তন করলে শুধু নেমসার্ভার আপডেট করতে হয়। এতে ডোমেইন সাসপেন্ড হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই।

৩৪. GDPR পলিসি কি ডোমেইন সাসপেন্ডের সাথে জড়িত? উত্তর: হ্যাঁ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকদের তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে বা নিয়ম ভাঙলে ডোমেইন রেজিস্টার আইনি চাপে পড়ে ডোমেইনটি সাসপেন্ড করতে পারে।

৩৫. ডোমেইন কি ইনঅ্যাক্টিভ (Inactive) থাকলে সাসপেন্ড হয়? উত্তর: না। আপনি ডোমেইন কিনে যদি ৫ বছর কোনো সাইট না-ও বানান, শুধু প্রতি বছর রিনিউ করেন, তবে ডোমেইন কখনোই সাসপেন্ড হবে না।

৩৬. কপিরাইট রিপোর্ট আসলে কতক্ষণ সময় পাওয়া যায়? উত্তর: সাধারণত রেজিস্টার কোম্পানি আপনাকে ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা সময় দেবে রিপোর্টটির জবাব দিতে বা বিতর্কিত কন্টেন্ট সরিয়ে ফেলতে। এর মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে ডোমেইন সাসপেন্ড হবে।

৩৭. ডোমেইন হাইজ্যাকিং বা চুরি হলে কি সাথে সাথে সাসপেন্ড করা যায়? উত্তর: হ্যাঁ। যদি আপনি দ্রুত প্রমাণসহ আপনার রেজিস্টারকে জানাতে পারেন যে ডোমেইনটি চুরি হয়েছে, তবে তারা তদন্ত চলাকালীন ডোমেইনটিকে 'Locked' বা 'Suspended' অবস্থায় রাখতে পারে যাতে চোর ডোমেইনটি সরাতে না পারে।

৩৮. ডোমেইন একবার সাসপেন্ড হলে কি গুগল র‍্যাঙ্কিং চিরতরে চলে যায়? উত্তর: চিরতরে নয়। যদি ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ফিরে আসে, তবে তেমন ক্ষতি হয় না। কিন্তু দীর্ঘ সময় (সপ্তাহের পর সপ্তাহ) বন্ধ থাকলে গুগল আপনার সাইটের ইনডেক্স কমিয়ে দেয়, যা ফিরে পেতে অনেক সময় লাগে।

৩৯. ডোমেইন সাসপেন্ড হওয়া অবস্থায় কি সাব-ডোমেইনের ইমেইল কাজ করবে? উত্তর: না। মূল ডোমেইন সাসপেন্ড হওয়া মানে ওই ডোমেইনের সাথে যুক্ত সমস্ত সাব-ডোমেইন এবং ইমেইল সার্ভিস (যেমন: info@yourdomain.com) সাথে সাথে বন্ধ হয়ে যাওয়া।

৪০. ডোমেইন কি কোনো সফটওয়্যারের লাইসেন্স কি (License Key) এর কারণে সাসপেন্ড হতে পারে? উত্তর: না। তবে যদি আপনি অবৈধ বা ক্র্যাক সফটওয়্যার আপনার ডোমেইনের মাধ্যমে ডিস্ট্রিবিউট করেন এবং সফটওয়্যার কোম্পানি রিপোর্ট করে, তবে ডোমেইনটি রিস্কি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে সাসপেন্ড হতে পারে।


৪১. ডোমেইন কি 'স্প্যাম স্কোর' বাড়লে সাসপেন্ড হয়? উত্তর: সরাসরি স্প্যাম স্কোরের জন্য ডোমেইন সাসপেন্ড হয় না। তবে আপনার ডোমেইন থেকে যদি প্রচুর পরিমাণে স্প্যাম ইমেইল পাঠানো হয় এবং ইমেইল প্রোভাইডাররা (যেমন: Gmail, Outlook) আপনার ডোমেইনকে ব্ল্যাকলিস্ট করে, তখন রেজিস্টার কোম্পানি আপনার ডোমেইন স্থগিত করতে পারে।

৪২. ডোমেইন কি কোনো নির্দিষ্ট দেশের আইপি ব্লক করলে সাসপেন্ড হয়? উত্তর: না। একটি দেশ আপনার ডোমেইনকে তাদের দেশে ব্লক বা সেন্সর করতে পারে (যেমন: বাংলাদেশে অনেক সাইট ব্লক থাকে), কিন্তু এর মানে ডোমেইন সাসপেন্ড হওয়া নয়। ডোমেইনটি বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে ঠিকই দেখা যাবে।

৪৩. ডোমেইন কি 'Name Server' ভুলের কারণে সাসপেন্ড হতে পারে? উত্তর: না। নেমসার্ভার ভুল হলে সাইট ওপেন হবে না (Error দেখাবে), কিন্তু ডোমেইনের স্ট্যাটাস একটিভ বা ওকে (OK) থাকবে। এটি কারিগরি ভুল, সাসপেনশন নয়।

৪৪. ডোমেইন রেজিস্টারের বিরুদ্ধে মামলা হলে কি আমার ডোমেইন বিপদে পড়বে? উত্তর: সাধারণত না। যদি কোনো ডোমেইন রেজিস্টারের লাইসেন্স বাতিল হয়, তবে আইসিএএনএন (ICANN) সকল ডোমেইন অন্য একটি বিশ্বস্ত কোম্পানিতে স্থানান্তর করে দেয়। আপনার ডোমেইন নিরাপদ থাকবে।

৪৫. ডোমেইন কি 'AdSense' ডিজেবল হওয়ার কারণে সাসপেন্ড হয়? উত্তর: না। অ্যাডসেন্স হলো গুগলের একটি বিজ্ঞাপন সার্ভিস। এটি বন্ধ হলে আপনি সাইট থেকে টাকা আয় করতে পারবেন না, কিন্তু ডোমেইন বা ওয়েবসাইটের কোনো ক্ষতি হবে না।

৪৬. ডোমেইন কি 'Whois Verification Failure' এর জন্য কত দ্রুত বন্ধ হয়? উত্তর: ডোমেইন কেনার পর ১৫ দিনের মধ্যে ভেরিফাই না করলে ১৬তম দিনে ডোমেইনটি সাসপেন্ড হয়ে যায়।

৪৭. ডোমেইন কি 'Child Safety Policy' বা শিশুদের সুরক্ষা নীতি ভাঙলে সাসপেন্ড হয়? উত্তর: হ্যাঁ, এটি একটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। শিশুদের জন্য ক্ষতিকর কোনো কন্টেন্ট ডোমেইনের মাধ্যমে প্রচার করলে কোনো নোটিশ ছাড়াই ডোমেইন স্থায়ীভাবে সাসপেন্ড এবং ডিলিট করে দেওয়া হতে পারে।

৪৮. ডোমেইন কি 'Phishing' বা ব্যাংক জালিয়াতির কাজে ব্যবহার করলে কি হবে? উত্তর: যদি আপনার ডোমেইন ব্যবহার করে কোনো ব্যাংকের ভুয়া লগইন পেজ তৈরি করা হয়, তবে সাইবার ক্রাইম ইউনিট বা রেজিস্টার কোম্পানি কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ডোমেইনটি চিরতরে বন্ধ করে দেবে।

৪৯. ডোমেইন কি 'Automated Scraping' এর কারণে সাসপেন্ড হতে পারে? উত্তর: আপনি যদি অন্য সাইটের ডাটা অটোমেটেড স্ক্র্যাপিং করে আপনার ডোমেইনে পাবলিশ করেন এবং মূল মালিক কপিরাইট (DMCA) রিপোর্ট দেয়, তবে ডোমেইন সাসপেন্ড হতে পারে।

৫০. ডোমেইন কি 'Transfer In' করার সময় সাসপেন্ড থাকতে পারে? উত্তর: না। ডোমেইন এক কোম্পানি থেকে অন্য কোম্পানিতে আসার সময় যদি আগের কোম্পানিতে কোনো সমস্যা (যেমন: পেমেন্ট বাকি) থাকে, তবে তারা ট্রান্সফার আটকে দিতে পারে এবং ডোমেইন সাসপেন্ড করতে পারে।


Post a Comment

© Developer Joynal. All rights reserved. Developed by Jago Desain